ঢাকা, রোববার, ২৯ মার্চ ২০২০ , , ৪ শা'বান ১৪৪১

আমি সালমানকে জোর করে বিয়ে করিনি: সামিরা

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: মার্চ ২, ২০২০ ৩:০৫ দুপুর

 

‘সালমানের মা নীলা চৌধুরী বলেন আমি নাকি ইমনকে জোর করে বিয়ে করেছি। তার এই কথাটা একদমই ঠিক না। ইমন (সালমান শাহ) আমাকে হঠাৎ করেই কাজী অফিসে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। আমাদের বিয়ের ছবিগুলো দেখলে প্রত্যেক মানুষেই বুঝতে পারবেন। ইমনকে যদি আমি জোর করে বিয়ে করতাম তাহলে তার মুখে রেজিষ্ট্রি করার সময় হাসি থাকতো না। এ ভুল ধারণাটা সালমানের মা তৈরি করেছে। যা সত্যিই নয়।’ এভাবেই সময় সংবাদকে কথাগুলো বলছিলেন সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক।

সামিরা হক বিয়ের বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের বিয়েটা হয় সালমান শাহ নায়ক হওয়ার আগেই। ১৯৯২ সালে আমরা বিয়ে করি। বিয়েটা সালমান হুট করে সিদ্ধান্ত নিয়ে করে ফেলেন। হঠাৎ করেই সালমান শাহ আমাকে এসে বলছে চল বিয়ে করে ফেলি। তখন কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না আমি। কি করব? কিন্তু সে নাছোড়বান্দা জোর করে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। কাজী আগে থেকে ঠিক করে রাখা ছিল। সাক্ষী হিসেবে ছিল চার জন। বিয়ে করার ওই দিনে আমরা মৌসুমীর সঙ্গে দেখা করি। বিয়েতে মত ছিল আমার পরিবারের। দুই বছর পর অবশ্য ধুমধাম করেই জামাই বরণ করে নেন আমার বাবা-মা।

সালমানের সঙ্গে যেভাবে প্রেম হয়, বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন সামিরা হক।

‘নব্বই সালে চট্টগ্রামে থাকি আমি। চট্টগ্রামের একটি ফ্যাশন শো ইমন (সালমান শাহ) আমাকে প্রথম দেখে। এরপর মলি খালার (পূর্বপরিচিত) সঙ্গে আমার কাছে আসেন। পরিচয়ের প্রথম কথাতেই সালমান আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বলে উঠলো- ‘তুমি তো খুব সুন্দর। আমার বউ তুমি’। আমি তখন ভয় পাই। সেদিন তাকে পাত্তা না দিয়েই চলে আসি। এরপর কিন্তু পরদিন সকালেই সালমান আমাকে রক্ত দিয়ে লিখে একটি চিঠি লেখে। আমি অবাক হয়েছিলাম। আমার বাসার ফোন নম্বর মলি খালার কাছ থেকে নিয়ে আমাকে ফোন করে সালমান। যদিও তখন কথা বলতে চাইনি। কিন্তু সে কথা বলবেই। এভাবেই শুরু হয় আমাদের প্রেম কাহিনি।

তিনি বলেন, শুরু থেকেই টুকটাক কথা হতো আমাদের। ওই বছরের ১৭ অক্টোবর সালমানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোয় রাজি হই। এরপর থেকে প্রতি মাসের ১৭ তারিখ সালমান আমাকে ফুল দিত। কাজের ব্যস্ততা বাড়তে থাকলেও আমাকে সে ফুল দিতে ভুল করতো না। এমন প্রেমিক ও ছিল, যা সবার ভাগ্যে আসে না। এমন প্রেমিক কোথায় পাব আমি? সত্যিই সে স্বপ্নের মতো এলো আমার জীবনে আর স্বপ্নের মতো করেই হারিয়ে গেল।

প্রথম ঘুরতে যাওয়ার প্রসঙ্গে সামিরা বলেন, ‘আমার সব এখনও মনে আছে। ‘৯০ সালের ৩১ ডিসেম্বর আমরা দুজন একসঙ্গে বেড়াতে বের হই। সালমানের একজন বন্ধু ছিল তাজিব। উনি গ্রিন রোডে থাকতেন। তার গাড়ি নিয়েই আমরা ঘুরতে বের হই। আনন্দ-বেদনায় ছিল সেসময়কার ঘোরার অভিজ্ঞতা। আমরা প্রথমদিন ঘুরতে গিয়েই বনানী পুলিশ টহলে আটক হই। অনেক রাতে বিয়ে না করে ঘুরছি সেটাই ছিল তাদের অভিযোগ। পরে আমার এক মেজর মামা আমাদের ছাড়িয়ে নেন।’

ক্যারিয়ারে তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ’র মৃত্যু হয়। গেল ২৪ ফেব্রুয়ারি সালমান শাহের মৃত্যুর পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। সেখানে সালমান শাহকে হত্যা করা হয়নি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। আগামী ৩০ মার্চ এই চাঞ্চলকর মৃত্যুর রায় হবে আদালতে।


%d bloggers like this: