ঢাকা, রোববার, ২৬ জানুয়ারী ২০২০ , , ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

উত্তরপ্রদেশে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৪

আন্তজাতিক ডেস্ক । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: ডিসেম্বর ২২, ২০১৯ ৯:২৬ সকাল

ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) প্রতিবাদে উত্তরপ্রদেশে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৮ বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। রাজ্য পুলিশ বলছে, শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের সময় এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। খবর এএফপির।

রাজ্য পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মিরাটে চারজন, ফিরোজাবাদে তিনজন, বিজনোরে দুইজন, কানপুরে দুইজন, রামপুর, সম্বল, বারানসি ও লক্ষ্ণৌতে একজনসহ মোট ২৪ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৫০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি পুলিশের।

জানা যায়, অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন মিরাটে, এর মধ্যে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশের সাথে তাদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ায় পদদলিত হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়।

এর আগে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) প্রতিবাদে শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ রাজ্যের বিভিন্ন জায় কমপক্ষে ছয়জনের মৃত্যু হয়। যা রবিবার সকালেই বেড়ে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

উত্তরপ্রদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক ওপি সিং দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীদের একজনও পুলিশের গুলিতে মারা যাননি। তিনি বলেন, এমনকি আমরা একটি বুলেটও নিক্ষেপ করি নাই।

পুলিশের আরেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, যদি কোনো গোলাগুলির ঘটনা ঘটে; তাহলে সেটি বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে হয়ে থাকতে পারে। আমরা গুলি করি নাই।

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর উত্তরপ্রদেশের অন্তত ১৩টি জেলায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রাজ্যে জারিকৃত কারফিউ উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করে।

জুমার নামাজের আগে রাজ্যের বিভিন্ন মসজিদে কঠোর নিরাপত্তা নেওয়া হলেও সাধারণ মানুষ তা উপেক্ষা করে রাজপেথে নেমে আসেন। অন্যদিকে দেশটির অন্যান শহরের পাশাপাশি রাজধানী নয়াদিল্লি বিক্ষোভাকারীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক দিল্লি জামে মসজিদ থেকে জুমার পর হাজারো মানুষ যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারীদের একটি মিছিলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে দিল্লি গেটে থামতে বাধ্য হন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় দিল্লির আকাশ ‘মোদি হটাও’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। এছাড়া বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার ও ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

এ ঘটনায় বিক্ষোভকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের দিকে পাথর ছুড়ে। পরে দিল্লির দরিয়াগঞ্জ পুলিশ স্টেশনের বাইরেন একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর বিক্ষোভকারীদের রুখতে দিল্লি মেট্রোর ১৭টি স্টেশন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর দিল্লি জামে মসজিদের গেট থেকে ভীম আর্মির নেতা চন্দ্রশেখর আজাদকে আটক করে পুলিশ। মসজিদ থেকে চন্দ্রশেখরের নেতৃত্বে হাজারো মানুষ স্লোগান দেন এবং পতাকা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় চন্দ্রশেখর আজাদকে সংবিধানের একটি অনুলিপি হাতে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। আটক করা হলেও পরে তিনি পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যান। এরপর পুনরায় তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) দিল্লির বেশ কয়েকটি এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এদিন দিল্লির লালকেল্লা এলাকা থেকে অসংখ্য বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। লালকেল্লা এলাকায় লোক সমাগম নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।

মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের বিধান রেখে দেশটির নতুন নাগরিকত্ব আইনকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে টানা বিক্ষোভ করছে মানুষ। বৃহস্পতিবার দেশটিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করেছে পুলিশ। গত কয়েকদিনের সংঘর্ষে অন্তত সাত বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর ম্যাঙ্গালুরুতে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনজনের প্রাণহানির পর সেখানে শুক্রবার তিনদিনের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

১৯৫৫ সালের ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পারসিসহ অমুসলিম অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে নতুন পাস হওয়া আইনে। এর প্রতিবাদেই দেশজুড়ে এই বিক্ষোভ চলছে।




%d bloggers like this: