ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ , , ৩ রজব ১৪৪১

গায়ে কেরোসিন ঢেলে গৃহবধূর আত্মহত্যা:স্বামীসহ তিনজনের কারাদণ্ড

নিউজ ডেস্ক,রাজশাহী । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: জানুয়ারি ২৯, ২০২০ ৭:২৪ দুপুর

 

যৌতুকের কারণে মারধর ও শ্বশুর-শাশুড়ির জ্বালা-যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে গৃহবধূর আত্মহত্যার মামলায় স্বামীর পাঁচ বছর এবং শ্বশুর ও শ্বাশুড়ির তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আত্মহত্যায় প্ররচনার অভিযোগে দায়েরকৃত এ মামলায় বুধবার দুপুরে রাজশাহীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান তালুকদার এই দণ্ড দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত স্বামীর নাম শ্রী অশিত চক্রবর্তী (২৫), শ্বশুর শ্রী অনিল চক্রবর্তী (৫৫) ও শাশুড়ি শ্রীমতি মনজু রানী (৪০)। তাদের বাড়ি নওগাঁ জেলার মান্দা থানার পারইল গ্রামে। নিহত গৃহবধুর নাম অনুভা চক্রবর্তী (২১)। তার বাবার নাম ভোলানাথ ব্যানার্জী। তাদের বাড়ি দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার দাউদপুর গ্রামে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, গৃহবধূ অনুভা চক্রবর্তী স্বামী রাজশাহীর মোহনপুরে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। তারা মোহনপুর উপজেলার খয়রা গ্রামের জনৈক আহমেদ আলীর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ওই বাড়িতেই ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর রাত প্রায় সাড়ে ৯টার দিকে অনুভা চক্রবর্তী নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয়দিন পর ২৩ নভেম্বর বেলা ১টার সময় অনুভা চক্রবর্তী মারা যান।

এ ঘটনায় বাদী হয়ে অনুভা চক্রবর্তীর মামা নওগাঁ জেলার মান্দা থানার শহরবাড়ী গ্রামের শ্রী অতুল কুমার চক্রবর্তী মোহনপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, যৌতুকের কারণে মারধর, জ্বালা-যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে নিজ দেহে কেরোসিনের তেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে অনুভা চক্রবর্তী আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তার আগে তিনি তার মামাকে মুঠোফোনে একটি খুদে বার্তা পাঠান। তাতে তিনি ইংরেজিতে যা লিখেছেন বাংলায় তার অর্থ হচ্ছে, ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমার একটি চাকরির প্রয়োজন, দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন। আমি অসহায়। এখন জীবনের জন্য টাকা প্রয়োজন। আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করব। তবে আপনার সাহায্যও প্রয়োজন। অশিত ভালো মানুষ না। তার পরিবারের লোকজন লোভী।’

মামলায় তদন্ত শেষে অনুভা চক্রবর্তীর স্বামী শ্রী অশিত চক্রবর্তী, শ্বশুর শ্রী অনিল চক্রবর্তী ও শ্বাশুড়ি শ্রীমতি মনজু রানীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ মিলেছে। ২০১৫ সালের ৩১ মে মোহনপুর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আদালতে আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয়পক্ষের মধ্য যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে স্বামী শ্রী অশিত চক্রবর্তীকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড; অনাদায়ে আরও ১৫ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং শ্বশুর ও শাশুড়ি উভয়কেই তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা অর্থ দণ্ড; অনাদায়ে আরও ১৫ দিন বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে হাজির থাকায় তাদের সাজা পরোয়ানা মূলে জেলহাজতে পাঠানো হয়। মামলায় বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেন।


%d bloggers like this: