ঢাকা, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ , , ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

চলছে নানা রকম দুর্নীতি ও অনিয়ম : ভুলে ভরা ৯ম শ্রেনীর ছাত্র-ছাত্রীদের রেজিষ্ট্রেশন কার্ড

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ : । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০১৯ ৩:৪৪ দুপুর

গোপালগঞ্জ জেলার প্রাণ কেন্দ্র পাবলিক হল মোড়ে অবস্থিত একটি বেসরকারি কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েল টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ। রয়েল টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে ৯ম শ্রেনীতে ছাত্র-ছাত্রীদের রেজিষ্ট্রেশন কার্ড হয়েছে ভুলে ভরা। যার কারনে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের জীবন এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ভুলে ভরা ওই রেজিষ্ট্রেশন কার্ড নিয়ে চলতে হবে তাদের আগামী দিনগুলি।
ব্যাপক অনুসন্ধানে ও ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগামী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করার জন্য নবম শ্রেনীতে তাদের রেজিষ্ট্রেশন করতে হয়েছে। ঢাকা কারিগরি বোর্ড থেকে করা সেই ওই রেজিষ্ট্রেশন কার্ডে প্রায় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর বয়স দেখানো হয়েছে ১৬.০৮.১৯৯৭ ইং সাল সে অনুযায়ী বর্তমানে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর বয়স দাড়ায় ২৩ বছর প্রায়। অথচ নিয়ম অনুযায়ী একজন ছাত্র বা ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষা দেয় ১৪ বা ১৫ বছর বয়সে। রেজিষ্ট্রেশন কার্ডে বয়স ভুলের কারনে হতাশ হয়ে পড়েছে ছাত্র-ছাত্রীসহ তাদের অভিবাবকরা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রয়েল টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে ৯ম শ্রেনীতে ছাত্র-ছাত্রীদের রেজিষ্ট্রেশন হয়েছে প্রায় ২ শতাধিকের মত। তার মধ্যে প্রায় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর রেজিস্ট্রেশন কার্ডে এ ভুল ধরা পড়ে। এ জন্য ওই কলেজ কতৃপক্ষ রেজিষ্ট্রেশন কার্ড সংশোধনের জন্য প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করছে। কতৃপক্ষ ছাত্র-ছাত্রীদের বলছে এ টাকা নেওয়া হচ্ছে রেজিষ্ট্রেশন কার্ড সংশোধনের জন্য। ছাত্র-ছাত্রীরা এর প্রতিবাদ করলে তাদেরকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে দেয়া হবে না বলে হুমকি প্রদান করে কলেজ কতৃপক্ষ। ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য বাধ্য হয়েই কলেজ কতৃপক্ষের বেধে দেওয়া নিয়মে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা করে দিতে বাধ্য হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে ওই কলেজের কোন শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। অনেক খোজাখুজির পর রেজোয়ানা নামে একজন শিক্ষকে পাওয়া গেলে তিনি মিডিয়ার সাথে প্রথমে কথা বলতে রাজি না হলেও পরবর্তীতে তিনি জানান, ৯ম শ্রেনীতে ছাত্র-ছাত্রীদের রেজিষ্ট্রেশন কার্ডে বয়সের ভুল হয়েছে যাহা আমরা পরবর্তীতে বোর্ড থেকে সংশোধন করে আনবো। রেজিষ্ট্রেশন কার্ড সংশোধনের জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছু জানিনা। আপনারা আমাদের প্রিন্সিপাল সাহেবের সাথে কথা বলেন।
এ ব্যাপারে রয়েল টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল মো: আতিয়ার রসুল হিমেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ওই কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলাম। আমি এখন আর ওই কলেজে প্রিন্সিপাল নেই। আমি বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের হিসাব বিভাগে কর্মরত আছি। আপনারা বর্তমান প্রিন্সিপাল নাসির উদ্দীনের সাথে কথা বলেন।
এ ব্যাপারে রয়েল টেনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল নাসির উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি রয়েল টেনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে অল্প কয়েকদিন হলো যোগদান করেছি। ৯ম শ্রেনীতে ছাত্র-ছাত্রীদের রেজিষ্ট্রেশন করা হয়েছে প্রিন্সিপাল মো: আতিয়ার রসুল হিমেলের সময়ে। যদি কোন ভুল হয়ে থাকে এ দায় তার আমার না। তা ছাড়া মো: আতিয়ার রসুল হিমেল এ কলেজের মালিক আমি না। আপনারা তার সাথে যোগাযোগ করেন।
এ ব্যাপারে ঢাকা কারিগরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রয়েল টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ৯ম শ্রেনীতে ছাত্র-ছাত্রীদের রেজিষ্ট্রেশন যে ভুলে হয়েছে সেটা ওই কলেজ কতৃপক্ষের ব্যাপার। তারা কম্পিউটারে রেজিষ্ট্রেশন কার্ড পুরন করার সময় ভুল করেছে এটা বোর্ডের কোন ব্যাপার না। রেজিষ্ট্রশন কার্ড সংশোধন করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না একবার বোর্ডে ছাত্র-ছাত্রীদের রেজিষ্ট্রেশন হয়ে গেলে তা আর সংশোধনের কোন পথ নেই। তবে ওই কলেজ কতৃপক্ষ বোর্ডের রেজিষ্ট্রেশন বিভাগে যোগাযোগ করে দেখতে পারে। যদি কিছু করতে পারে।
রয়েল টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে ৯ম শ্রেনীতে ছাত্র-ছাত্রীদের রেজিষ্ট্রেশন কার্ডে ভুল সংশোধনের ব্যাপারে দ্রুত সমাধানে জরুরী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কলেজ কতৃপক্ষ ও ঢাকা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী ছাত্র-ছাত্রীসহ অভিবাবকগন।




%d bloggers like this: