ঢাকা, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ , , ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

নির্বাচনের বড় ফ্যাক্টর ছিল: মিশা

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: অক্টোবর ২৬, ২০১৯ ১২:৩৩ দুপুর

 

অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে এবারের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে উত্তেজনা ছিল। অবশেষে শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ এবং ফলাফল ঘোষণার মধ্যে দিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন।

এবারের নির্বাচনে মিশা-জায়েদ পরিষদ পূর্ণ প্যানেল নির্বাচিত হয়েছে। নির্বাচনে এবারই প্রথমবার কোনও নারী প্রার্থী সভাপতি পদে নির্বাচন করেছেন। তবে কোনও প্যানেল না পেলেও তিনি একাই স্বতন্ত্র দাঁড়িয়ে মিশা সওদাগরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। শুরুতে তারকা বহুল প্যানেল ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। কোনও অজানা কারণে তার সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সদস্যরা নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ায় তার সঙ্গে নির্বাচন করতে যাওয়া তারকারা।

মৌসুমি যে তারকাদের নিয়ে প্যানেল গড়তে চাইলেও তিনি ফোনে যোগাযোগ করলেও কেউ তার ফোন রিসিভ করেননি। এমন পরিস্থিতিতে শুরুতেই হোঁচট খান ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ খ্যাত নায়িকা। সিদ্ধান্ত নেন একাই নির্বাচন করবেন। সেই ইচ্ছা অনুযায়ী তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন তিনি। মৌসুমীর এই সাহসের সাধুবাদ জানিয়েছেন মিশা সওদাগর।

নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন মিশা সওদাগর। তিনি বলেন, জয়-পরাজয় বড় কথা নয়। দিনের শেষে সবাই আমরা শিল্পী। একটি পরিবারের সদস্য সবাই। নির্বাচনে একা লড়াই করে মৌসুমী যে সাহস দেখিয়েছে তা প্রশংসার দাবি রাখে। মৌসুমীর জন্য শুভ কামনা সব সময়।

মিশা সওদাগর আরও বলেন, মূলত এবারের নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর ছিলেন ডিপজল ও রুবেল ভাই। এই দুজনেই চলচ্চিত্র শিল্পীদের খুব কাছের মানুষ। ইন্ডাস্ট্রির যেকোনো মানুষের বিপদে তারা পাশে থাকেন। তারা নিরবে-নিভৃতে সহযোগিতা করেন। এই দুজন মিশা-জায়েদ প্যানেলে থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর থেকেই সব হিসাব-নিকাশ পরিবর্তন করেন।

অন্যদিকে মিশা সওদাগর তার দুই বছরের হিসাব তুলে ধরে বলেন, আমরা গেল দুই বছর যে কাজগুলো করেছি তা দিনের আলোর মতো পরিস্কার। কাজ আর শিল্পীদের মধ্যে পৌঁছানোর মধ্যে যে ভালোবাসা তৈরি হয়েছে তা নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে শিল্পীরা দেখিয়ে দিয়েছেন।

দ্বিতীয় মেয়াদে শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদকের পদে নির্বাচিত হয়েছেন জায়েদ খান। তিনি বলেন, আমরা সকল-সিনিয়র জুনিয়র শিল্পীদের এক জায়গায় এনেছে। সেই সব শিল্পীদের ভালোবাসায় আমি বিশাল ভোটে জয় লাভ করেছি। মূলত আমাদের ফুল প্যানেল জয় লাভ করার পেছনে মূল কারণ হচ্ছে আমাদের গেল দুই বছরের কাজ। শিল্পী সমিতির ক্ষমতার জন্য আমরা নির্বাচনে অংশ নেই। আমাদের মূল উদ্দেশ্য শিল্পীদের সেবা করা। সেই সৎ উদ্দেশ্য আমদের জয়ী করেছে।

তবে এই নির্বাচনে মিশা-জায়েদের দুশ্চিন্তার কারণ ছিল চিত্রনায়িকা মৌসুমি। এ কারণে মিশা-জায়েদ প্যানেলের বাকি সদস্যরা নিজের ভোট না চেয়ে মিশার জন্য ভোট চেয়েছেন। সিনিয়র অনেক খ্যাতিমান শিল্পীরাও সামনে না এসে মিশা-জায়েদ প্যানেলের হয়ে কাজ করেছেন। আর নির্বাচনের দুই দিন আগেই নায়ক রুবেল তো ঘোষণাই দিয়ে বসেন, মিশা যদি পরাজিত হন তিনি পাস করলেও পদত্যাগ করবেন। প্যানেলের অন্য প্রার্থীরাও রুবেলের কথার সমর্থন দেন।

সব জল্পনা কল্পনার পর এবারের নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে জয় পেয়েছেন মিশা-জায়েদ প্যানেলের সকল সদস্যরা। বিএফডিসি শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। সমিতির মোট ভোটার ৪৪৯ জন; যা গত নির্বাচনে ভোটার সংখ্যার চেয়ে ১৮১ জন কম। জানা গেছে, এবার ভোট পড়েছে ৩৮৬টি; যা মোট ভোটের ৮৬ শতাংশ।

এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী ও খলনায়ক মিশা সওদাগর। সমিতির ২১টি পদের মধ্যে নির্বাচন হয় ১৮টিতে।

এদিকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগেই বিজয়ী হিসেবে নাম এসেছে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সুব্রত, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে জ্যাকি আলমগীর এবং কোষাধ্যক্ষ পদে ফরহাদের।

ভোটের আগে নানা জল্পনা-কল্পনা থাকলেও সব কিছু শেষে ভোট গ্রহণের দিনে প্রার্থীরা নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টির কথাই জানান।

শিল্পী সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। আর নির্বাচন কমিশনার হিসেবে ছিলেন পীরজাদা শহিদুল হারুন ও বিএইচ নিশান। আপিল বোর্ডে চেয়ারম্যান হিসেবে আলম খান, সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সোহানুর রহমান সোহান ও রশিদুল আমিন হলি




%d bloggers like this: