ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ , , ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

নীল জোৎস্নায় সবুজ অন্ধকার

সিএনএন বাংলাদেশ ডেস্ক । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: মার্চ ২৭, ২০১৯ ৯:০৩ সকাল

সিএনএন বাংলাদেশ কবিতা:

সুহৃদ সোহান হক

ফের যদি শহরে জারি হয় অনির্দিষ্ট কারফিউ
ফের যদি ভরন্ত দুপুরে নেমে আসে
জলপাই অন্ধকার

ফের যদি ইস্পাতের শিরস্ত্রাণ আর চকচকে বেয়োনেটের ফলা উঁচিয়ে কোন সন্দিগ্ধ সৈনিক ” হল্ট” বলে চিৎকার করে ওঠে
ফের যদি সামরিক জান্তার সামরিক আদেশ জারি হয়
“যার যা আছে জমা দাও”

তাহলে আমি হয়ে যাবো কোন কোমল বিদ্রোহী
আমার হৃদয় নামক মারাত্মক অস্ত্র টা আমি জমা দেবো না
ওটা আমি জমা রেখেছি শিল্পের সুষমায় মোড়ানো
এক মখমল যুবতীর কাছে।

আমার দুচোখের গোপন কুঠুরি তে রেখেছি
সারি সারি কার্তুজ
বুকের ভল্টে জমা আছে এক দারুন বহ্নি।

কেড়ে নেবে? নাও..
তার আগে, কবরে নয়, আমার শুভ্র কাফনেই লিখে দিও
একটি মারাত্মক এপিটাফ

”এইখানে শুয়ে আছে এক দুরন্ত স্বপ্নবাজ প্রেমিক
এইখানে শুয়ে আছে এক কোমল বিদ্রোহী
যে এক শ্যামল তরুনীর নরম শাসনে বেপরোয়া হতে হতে
হয়ে উঠেছিল তৃষিত হরিণ।”

বর্শার ফলার মতো তীক্ষ্ণ রোদে
আমার দীর্ঘ, প্রলম্বিত ছায়া গিয়ে মেশে তোমার জানালায়
আমি গণতন্ত্র চাই না, আমি সমাজতন্ত্র চাই না
সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্ত দেখতে চাই না

রবীন্দ্রনাথ, লেনিন, সুকান্ত, ঝাঁকড়া চুল, খাঁ খাঁ মুক্তি সীমান্ত,
প্রজাপতির ওড়াউড়ি, শিমুল ফুলের আগুন, ঝাউয়ের দোলা,
আইফেল টাওয়ারের টিকেট, ব্যবিলনের শুন্য উদ্যান কিছুই চাই না আমি

শুধু তোমার চোখের একটি ঝিলিক দিয়ে
আমাকে কিনে ফেলতে পারো পুনর্বার
তুমিও কি রাখো নি তোমার খুদে আগ্নেয়াস্ত্র টা জমা,
এই আমার কাছে?
এসো না সব ঋণ শোধ বোধ করে ফেলি?

সামরিক আদেশ কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে
হয়ে উঠি এক জোড়া শৈল্পিক বিপ্লবী !


%d bloggers like this: