ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ , , ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

প্রিয়া সাহা সরকারের জন্য ‘বিপদ সংকেত’ !

গোলাম মাওলা হাজারী । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: জুলাই ২২, ২০১৯ ১২:৩৩ দুপুর

দোহা, কাতার থেকে :: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্পের কাছে দেয়া প্রিয়া বালা সাহার বক্তব্যকে দেশদ্রোহিতা বলেও সরকার পিছু হটতে বাধ্য হইছে। ব্যারিস্টার সুমন সাহেব ঘোষনা দিয়ে প্রিয়া বালা সাহার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতা মামলা করেছিল কোটে। কিন্তু মামলাটি আমলে নেয়নি আদালত। অর্থাৎ মামলা বাতিল।দেশে আলোচনার প্রধান বিষয় হয়েছে দাড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্পের কাছে দেয়া প্রিয়া বালা সাহার বক্তব্য। সবাই নিজের মত করে আলোচনা সমালোচনা করে নিজ নিজ মতামত তুলে ধরছে। অনলাইন ব্যবহারকারী ইতিমধ্যে প্রিয়া সাহার অভিযোগ নিয়ে নিজস্ব আলোচনা সমালোচনা নিজের মত তুলে ধরছে। যদিও বিষয়টি আমার মাথা ব্যাথার কারন মনে করছি না। নিজে দুবেলা খেয়ে পড়ে বাচাঁর জন্য প্রবাসে কামলা দিচ্ছি। একজন কামলার মতামত অর্থহীন জেনেও লিখতে বসেছি।আমি আমার মতামত লিখার আগে যারা পোষ্টটি পড়বেন তাদের নিকট ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। ক্ষমা চাওয়ার কারন হল একজন নগন্য কামলার লেখা পড়ছেন সেটা নিশ্চয় আমার ভাগ্য। তবে কেউ মতামত দিয়ে লজ্জা না দেওয়ার অনুরোধ করছি।

ফিরে যাচ্ছি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্পের নিকট দেয়া প্রিয়া বালা সাহার বক্তব্যের নিকট।প্রিয়া বালা সাহা একদিনে তৈরি হয় নাই। সরকার সমর্থিত সংগঠন হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের আশ্রয় প্রশ্রয়েই আজকের এই প্রিয়া বালা সাহা। প্রিয়া বালা সাহার পরিচয়, ক্ষমতা ইতিমধ্যে সকলের নিকট পরিষ্কার হওয়ার কথা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্পের কাছে পর্যন্ত পৌছাতে কত ক্ষমতা দরকার একবার চিন্তা করে দেখুন! অনেকেই হয়তো মনে প্রশ্ন তৈরি করেছেন কে এত দূর পর্যন্ত প্রিয়া বালা সাহাকে যেতে সাহায্য করেছে। উত্তরটা না বললেও সবার জানা হয়ে গেছে। যে ‘উপর মহল’ প্রিয়াকে যে উদ্দেশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্পের কাছে নিয়ে গেছে, সেখানে পৌছানোর পর সুকৌশলে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি জগন্যতম অভিযোগ করেছে। এখন সরকারের উচিত অভিযোগ খতিয়ে দেখা। তদন্ত করে দেখতে হবে আসলে প্রিয়া বালা সাহার অভিযোগ কতটুকু সত্য।

যদি অভিযোগ সত্য হয় তবে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা জরুরি। কারন নিজ ভূখণ্ডে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বেচেঁ থাকার অধিকার সবার আছে। দেশ হবে ধর্মীয় সম্প্রতির দেশ,সকলেই নিজ নিজ গৃহে নিজ নিজ ধর্ম কর্ম পালন করবে কারো হস্তেক্ষেপ ছাড়া।সরকারকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে ধর্মীয় সংখ্যালঘু কেউ যদি আপন ইচ্ছায় নিজ গৃহ বিক্রয় করে অন্য দেশে পাড়ি জমিয়ে থাকে,সেটা ঐ ব্যক্তির একান্ত ব্যক্তিগত ইচ্ছারই প্রতিফলন। অনেক সংখ্যাগুরুও নিজ দেশ ছেড়ে উন্নত জীবন ব্যবস্থার জন্য উন্নত বিশ্বে পাড়ি জমিয়েছে।

শেষ করবো প্রিয়া সাহার উপর উঠার গল্প দিয়ে।প্রিয়া বালা সাহার একজন ভিআইপি ব্যক্তি। কোন সাধারণ ব্যক্তি প্রিয়া বালার কিছু করার ক্ষমতা রাখে না। আর এখন চাইলে সরকারও কিছু করার ক্ষমতা রাখে না। কারন অনেকেই বলেছে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা গ্রহন করুক। কিন্তু সেই ক্ষমতা আর সরকারের নেই। প্রিয়া বালা ও তার দুই মেয়ে ইতিমধ্যে আমেরিকা অবস্থান করছেন। আর তার স্বামী আছে সরকারের একটি চাকুরীতে। তারপরও সরকার কিছু করার ক্ষমতা রাখে না।সরকার বিচারিক ব্যবস্থা নিতে গেলে প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প বা সেই দেশের আদালতকে তথ্য প্রমান দেখিয়ে বলবে শুধু অভিযোগ করাতে বাংলাদেশ সরকার আমার ও আমার পরিবারসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুর উপর অত্যাচার করছে।তখন মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার সহজ রাস্তা তৈরি হবে।আলোচনায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার কথাও যোগ করতে পারি।এসকে সিনহাকে যেভাবে অপসারণ সহজ হয়েছে এটা সে রকম সহজ নয়।

সবশেষ একথা দাড়ায় যে, যাদেরকে সরকার অতিক্ষমতা দিয়েছে তারাই এক সময় বিদ্রোহ করছে। তারমানে দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধ আচরন শুরু করেছে।সরকারে কথা শুনতে চাচ্ছে না দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। আমি এটাকে সরকারের জন্য বিপদ সংকেত মনে করছি। তাই সরকারের এব্যাপারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছি।

# লেখক : বিশেষ প্রতিনিধি, মধ্যপ্রাচ্য, বাংলাভিশন। 

লেখাটি লেখকের নিজস্ব মতামত। এখানে সম্পাদকের কোন দায় নেই।


%d bloggers like this: