ঢাকা, রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ , , ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

বশেমুরবিপ্রবি’র শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদেশী শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ : । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: নভেম্বর ২৫, ২০১৯ ১২:৫১ দুপুর

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও সহকারী প্রক্টর মো: হুমায়য়ূন কবিরের বিরুদ্ধে বিদেশী ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্তের জন্য আরও ১৫ কর্ম দিবস সময় চেয়ে আবেদন করেছে যৌন নিপীড়ক প্রতিরোধ কমিটি।
রোববার তদন্তের জন্য নির্ধারিত পাঁচ কর্ম দিবস শেষ হয়। প্রতিবেদন জমা দেয়ার শেষ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে তদন্ত সম্পন্ন করতে আরও ১৫ কর্ম দিবস সময় চেয়ে আবেদন করেছে ওই কমিটি। গত ১৩ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের বিদেশী শিক্ষার্থী (সুমিশিং) একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও সহকারী প্রক্টর মো: হুমায়ূন কবিরের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্রারের কাছে যৌন নিপীড়নের লিখিত অভিযোগ করেন।
এদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষককে একাডেমিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রেখে তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলে সচেতন মহল মনে করেন।
লিখিত অভিযোগে ওই শিক্ষার্থী (সুমিশিং) উল্লেখ করেন, সমাজ কল্যান বিভাগের প্রভাষক মো: হুমায়ূন কবির কৃষি বিজ্ঞানের ক্লাস নিতেন। ক্লাস শেষে তিনি (শিক্ষক) আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে তার সাথে দেখা করতে বলতেন। আমি দেখা করতাম। এক পর্যায় তিনি আমাকে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান এবং তা এক্সেপ্ট করার জন্য অনুরোধ করেন। আমি তার ফেসবুকের আবেদন গ্রহন করি। তারপর থেকে ওই শিক্ষক আমার ম্যাসেঞ্জারে যৌন উদ্দীপনা মূলক ম্যাসেজ পাঠাতে থাকেন। এতে আমি খুবই বিব্রতবোধ করি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ওই শিক্ষক আমাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন এবং আমাকে আপত্তিকর ম্যাসেজ পাঠান। তিনি আমাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। আমি তার এ ধরনের আচরনের প্রতিবাদ করি ও বিষয়টি অন্যান্য শিক্ষকদের বলে দেব বলে জানালে তিনি আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। এয়াড়া পড়ালেখা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমি কি ভাবে সার্টিফিকেট পাই তিনি তা দেখে নিবেন বলে আমাকে হুমকি দেন।
সহকারী প্রক্টর হুমায়ূন কবিরের হুমকিতে আমি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ি। এসব কারণে বর্তমানে আমার পড়ালেখার মারাত্বক বিঘœ ঘটছে। আমার কোন দুর্ঘটনা ঘটলে ওই শিক্ষক দায়ী থাকবেন বলেও ওই শিক্ষার্থী অভিযোগে জানান। এ সময় নৈতিকস্খলনযুক্ত সহকারী প্রক্টর হুমায়ুন কবীরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন তিনি। কিছু দিন আগে তিনি (সুমিশিং) বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে লিখিত ভাবে জানিয়েছেন বলেও জানান।
অভিযোগের একদিন পর সংবাদ সম্মেলন করে নেপালী ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের কথা অস্বীকার করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো: হুমায়ূন কবীর। গত ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের একটি ক্লাস রুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের কথা অস্বীকার করেন অভিযুক্ত শিক্ষক।
এ সময় তিনি বলেন, এটি একটি মিথ্যা, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও সাজানো ঘটনা। সাবেক ভিসি নাসিরউদ্দিনের অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে আমি সে সময় সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করি। সাবেক ভিসি পন্থী কিছু শিক্ষক ষড়যন্ত্র করে সুমি শিং নামে কৃষি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের একজন নেপালী শিক্ষার্থীর মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। এ ঘটনা আমার সম্মান ক্ষুন্ন করেছে।
এছাড়া সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেনীর ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্রান্তের সাথে জড়িত একটি সিন্ডিকেটকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর কাছে সোপর্দ করতে আমি সহযোগিতা করি। ফলে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারিরা তৎপর হয়ে ওঠে এবং নানান ষড়যন্ত্র শুরু করে। এসব কারনে আমি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার চরিত্র হননের জন্য ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি করে ন্যায় বিচারের দাবী জানাচ্ছি।
এরআগে তিনি গোপালগঞ্জ থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারন ডায়েরী করে ছিলেন। (যার নং-১০৮২, তারিখ ২৩.০৯.২০১৯ ইং)।
অপরদিকে শিক্ষক কর্তৃক বিদেশী ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনার প্রতিবাদ ও অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারন শিক্ষার্থীরা দু’দফা মানববন্ধন করে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মূখে মো: হুমায়ূন কবীরের সহকারি প্রক্টর পদ সাময়িক ভাবে স্থগিত করা হলেও একাডেমিক কার্যক্রমের সাথে বহাল রয়েছেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ক প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব এস এম গোলাম হায়দার বলেন, তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভাবে করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রারের কাছে ১৫ কর্ম দিবস সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের দু’জন সদস্য স্ব স্ব কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকায় তদন্ত সম্পন্ন করতে আরও সময়ের প্রয়োজন।
অভিযুক্ত শিক্ষককে একাডেমিক কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত রেখে তদন্ত করা হলে তদন্তে কার্যক্রমে তা কোন প্রভাব ফেলবে কিনা, এ প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে তিনি রাজি হননি তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুরাদ হোসেনের সাথে এ ব্যাপারে কথা বললে তিনি তদন্ত কমিটির সময় বৃদ্ধির আবেদনের কথা স্বীকার করে বলেন, সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে সময় বৃদ্ধির আবেদন করা হলে সাধারনত তা মঞ্জুর করা হয়ে থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মো: শাহজাহান বলেন, অভিযোগটি যৌন নির্যাতন নিপীড়ক কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে ওই শিক্ষক দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও সহকারি প্রক্টর হুমায়ূন কবীর বিতর্কিত সদ্য পদত্যাগকারি বিতর্কিত ভিসি নাসিরউদ্দীনের সময়ে সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভিসির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চরমে পৌছালে ওই পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেন। ভিসি নাসিরের পদত্যাগের পর তিনি আবারও পূর্বের পদে পুনঃনিয়োগ পান।


%d bloggers like this: