ঢাকা, রোববার, ২৬ জানুয়ারী ২০২০ , , ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

ভারতের নাগরিকত্ব বিল নিয়ে ঐক্য পরিষদের উদ্বেগ

নিউজ ডেস্ক,ঢাকা । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯ ৫:৪৯ দুপুর

 

ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব সংশোধন বিল বা সিএবি পাস হওয়ায় এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।

তিনি বলেছেন, প্রকৃত অর্থে ভারতীয় লোকসভা ও রাজ্যসভায় গৃহীত নাগরিকত্ব সংশোধন বিল আইনে পরিণত হলে একদিকে অধিকতর নিরাপত্তার আশায় সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগে উৎসাহিত করতে পারে, দেশের অভ্যন্তরে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এদের অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করতে পারে। অন্যদিকে, ১৯৭৫-র বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সংখ্যালঘুদের জীবন, পরিবার ও সম্পদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে যারা তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করেছে, তাদের সাম্প্রদায়িক নির্যাতন, নিপীড়ন, ভূমি দখল, ধর্মান্তরকরণ ইত্যাদি অব্যাহত রেখে সংখ্যালঘুদের দেশছাড়া করার জন্য এবং বাংলাদেশকে এক ধর্মীয় রাষ্ট্রে পরিণত করতে তাদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে অধিকতর উৎসাহিত করবে।

শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর পল্টনে ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রানা দাশগুপ্ত এসব কথা বলেন।

লিখিত বক্তব্য ঐক্য পরিষদের এ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ কথা অস্বীকারের উপায় নেই সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বিলোপ করে পরবর্তীতে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে সংযোজনের মধ্য দিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতিসত্ত্বাকে বিভাজিত করা হয়েছে এবং সাম্প্রদায়িকতাকে রাষ্ট্রীয়করণ করে তৃণমূলে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগ কম-বেশি অব্যাহত আছে। নানান ক্ষেত্রে ধর্মীয় বৈষম্য এখনো বহুলাংশে বিদ্যমান। সাম্প্রদায়িক নির্যাতন নিপীড়নও অব্যাহত আছে। বহুত্ববাদী সমাজ থেকে বাংলাদেশ ক্রমশঃ দূরে সরে যাচ্ছে। এসব সমস্যার মৌল সমাধান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক, সামাজিক আন্দোলনের মধ্যে নিহিত রয়েছে।

তিনি বলেন, গণবিরোধী শক্র বা অর্পিত সম্পত্তি আইনের অব্যাহত প্রয়োগ-অপপ্রয়োগে, সাম্প্রদায়িক নির্যাতন-নিপীড়নে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে, আতঙ্কিত হয়ে ৭৫-পরবর্তীতে পাকিস্তানি আমলের মতো সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর এক বিশাল অংশকে দেশত্যাগে বাধ্য করায় তারা প্রতিবেশি রাষ্ট্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে । সংখ্যালঘু ভিন্ন অন্য জনগোষ্ঠীর লোকজনও ভারতে আশ্রয় নিতে পারে, তবে এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, ভারতে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি থেকে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু কথিত বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী বাদ পড়ে থাকলে সেক্ষেত্রে ধর্মীয় বিভাজনের পথে না গিয়ে জাতীয়-আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বা দ্বি-পক্ষীয় রাষ্ট্রীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে এর সমাধান হলে ভালো হতো। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ মনে করে, ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির মধ্য দিয়ে অখণ্ড ভারত খণ্ডিত হয়ে আজ তিনটি পৃথক রাষ্ট্রে পরিণত হলেও সংখ্যালঘু সমস্যাবলীর সমাধান আজও হয়নি। বরং তা অধিকতর জটিল পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা কোনো রাষ্ট্রের রাষ্ট্রনায়ক বা রাজনীতিকদের পক্ষে ভবিষ্যতে সম্ভব নাও হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে বলা হয়, যে ঘোষিত অভিপ্রায়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তার দেশের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল লোকসভায় উত্থাপন করেছিলেন, যা রাজ্যসভায়ও পাস হয়েছে, তাতে কার্যতঃ বাংলাদেশের ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের স্বার্থ কতখানি রক্ষিত হবে তা ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে বলে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ মনে করে। এমন পরিস্থিতিতে বিগত একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারি দল তার নির্বাচনী ইশতেহারে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, সংখ্যালঘু স্বার্থ রক্ষার্থে জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন ও বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন ও পার্বত্য শান্তিচুক্তি যথাযথ বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে, প্রধানমন্ত্রী তার বাস্তবায়নে অনতিবিলম্বে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশাবাদী ঐক্য পরিষদ।

ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। এতে অন্যদের মধ্যে কাজল দেবনাথ, বাসুদেব ধর, জে এল ভৌমিক, নির্মল রোজারিও, মঞ্জু ধর, মনীন্দ্র কুমার নাথ, অ্যাডভোকেট তাপস পাল, অ্যাডভোকেট. কিশোর মন্ডল, রবীন বসু, অ্যাডভোকেট দীপংকর ঘোষ, পদ্মাবতী দেবী, চন্দন বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




%d bloggers like this: