ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ , , ৪ রজব ১৪৪১

মুনিরীয়া যুব তবলীগ ফের সক্রিয়, প্রকাশ্যে ভন্ড মুনিরউল্লাহ!

কে এম. রেজা । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: জানুয়ারি ২০, ২০২০ ৯:১৭ দুপুর

ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে আলোচিত ধর্মীয় সংগঠন মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি। চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয়েছে পোস্টার, লিফলেট, ফেস্টুন। নানা বিতর্কের কারণে কিছুদিন নিরব থাকলেও আজ (২০ জানুয়ারি) ফের প্রকাশ্যে সমাবেশ করেছে সংগঠনটি। এ সমাবেশের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর জনসম্মুখে এলেন কাগতিয়া দরবারের কথিত পীর ও মুনিরীয়া যুব তবলীগের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুনিরউল্লাহ।

সরেজমিন দেখা যায়, নগরীর ২নং গেইট, বায়েজিদ, অক্সিজেনসহ বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয়েছে পোস্টার-ফেস্টুন। তরিক্বত কনফারেন্সের নামে লাগানো ফেস্টুনে সমাবেশের স্থান দেখানো হয়েছে বায়েজিদের গাউছুল আজম সিটি এলাকা। এরআগে রোববার নগরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মোড়ে করা হয় মাইকিং।

সমাবেশের বিষয়টি অবগত কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রিটন সরকার সিএনএন কে বলেন, ‘ওনারা সিটি এসবি থেকে অনুমতি নিয়ে সমাবেশ করেছেন। আমরাও সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেছি।’

এদিকে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি ও কাগতিয়া দরবার ইস্যুতে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মুনিরউল্লাহকে গ্রেপ্তার ও সংগঠনটি নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করে স্থানীয় মানুষ। রোববার (১৯ জানুয়ারি) টায়ার জ্বালিয়ে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক অবরোধ, মিছিল ও সমাবেশ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। সমাবেশে মুনিরউল্লাহকে গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, একযুগ ধরে নানা মনগড়া কেরামতি ও ভ্রান্ত মতবাদ প্রচার করে আসছে মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি। প্রতিবাদ করায় সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অনেকে। সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আছে হত্যা ও জঙ্গি তৎপরতায় সম্পৃক্ততার অভিযোগও।

২০১৯ সালে সংগঠনটির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে ফুঁসে ওঠে রাউজানের সর্বস্তরের মানুষ। মুক্তিযোদ্ধা, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। একপর্যায়ে পিছু হটেন মুনিরউল্লাহ ও তার অনুসারীরা। কেউ গা ঢাকা দেন, কেউ পদত্যাগ করেন সংগঠন থেকে। এরপর সংগঠনটির নেতা-কর্মী, বিশেষ করে প্রতিষ্ঠাতা মুনিরউল্লাহর বিরুদ্ধে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব অভিযোগ। সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একে একে আটটি মামলা হয়। যার মধ্যে দুটিতে মুনিরউল্লাহকে করা হয় প্রধান আসামি। এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় সাতজনকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুনিরীয়া যুব তবলীগের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল আনোয়ার, আওয়ামী লীগ নেতা মোজাম্মেল হক, গাউছিয়া কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার, আল্লামা মহিউদ্দিন, আল্লামা হাফেজ নুরুল আবছার, শ্রমিক আবদুল মান্নান, রিকশাচালক শামসুল আলমসহ অনেক মানুষের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০১১ সালে ছাত্রসেনা কর্মী নঈম উদ্দিনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগও আছে মুনিরীয়া যুব তবলীগের সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

শুধু তাই নয়। মুনিরউল্লাহর বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগে হাইকোর্টে রিটও দায়ের করা হয়। রিটটির রায় পক্ষে গেলেও এখন পর্যন্ত জমির দখলে যেতে পারেনি রাউজানের প্রখ্যাত পীর মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিকীর।


%d bloggers like this: