শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০

সংস্কৃতি অঙ্গনে মাফিয়াদের কালো টাকা ঘুরে! - আসিফ

সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: অক্টোবর ৩, ২০২০ ২০:১৭ পিএম

সংস্কৃতি অঙ্গনে মাফিয়াদের কালো টাকা ঘুরে! - আসিফ

ফেসবুক টাইমলাইন ::আমি খুব তীক্ষ্নভাবে পোষ্টের প্রতিটি কমেন্ট পড়ার চেষ্টা করি, সুযোগ পেলে উত্তর দেই। হাজার হাজার কমেন্টের উত্তর দেয়া সম্ভব নয়, তবুও চেষ্টা করি হাজিরা দিতে। আমার কাজের পরিধি একটু বড়ই। শুধু ঘুমটা সলিড হলে বাকী সব নিয়ন্ত্রনে থাকে। পাবলিক কমেন্টে মাঝে মাঝে কিছু অদ্ভূত সুন্দর কমেন্ট পাই। যেমন একজন লিখেছে - ভাই আপনার প্রতিটি পোষ্ট এক একটা মিছিলের মত। এভাবে কখনো ভাবিনি। তবে যখন দেখি আমার পোষ্ট লাখো কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে তখন খুব আনন্দ পাই। এই পেইজটা একটা নিউজ পেপার, কখনো কখনো তার চাইতেও বেশী। কিছু চিরস্থায়ী গিট্টুবাজ ছাড়া দল মত নির্বিশেষে মানুষ আমার লেখা পড়ে।কেউ বিরোধী মতের হলেও আমার কথার সত্যতাকে গুরুত্ব দেয়। থ্যাংক ইউ দেয়ার আকালের যুগে এটাই বিশাল প্রাপ্তি। 

সমাজ রাষ্ট্র নিয়ে লেখালেখি করলে অনেকেই অন্যান্য শিল্পীর দিকে আঙ্গুল তোলেন। বিভিন্ন অনিয়মে তাদের নীরব ভূমিকায় ক্ষুদ্ধ হন। একসময় আমারও খুব রাগ লাগতো। অনেক বিচার বিশ্লেষন করে দেখলাম আসলে তাদের উপায় নেই। বেশী সাহস দেখাতে গেলে কর্মহীন হয়ে যেতে পারেন। তাই তারা বিনয়ের নামে উটপাখী হয়ে আত্মরক্ষা করেন, আবার রোষানলের পড়ে যাওয়ার ব্যাপার আছে। সংস্কৃতি অঙ্গনে মাফিয়াদের কালো টাকা ঘুরে। কে কখন খরচের খাতায় চলে যায় সে ভয়তো আছেই। তাছাড়া এ দেশে শিল্পীদের নিরাপত্তায় কোন রকম পলিসি নেই। শিল্পীরা বিভিন্ন সময় চ্যারিটি করে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। আর শিল্পীদের জন্য একটাই আশ্রয়, সেটা প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিল। সেখান হাতে গোনা কিছু তারকা শিল্পী সাহায্য পায়। সেই সাহায্য পেতে হলে আবার লবিংও প্রয়োজন, সবাই পাবেনা। তারকা শিল্পীদের একটু সুবিধা বেশী, এতে সরকারের প্রচার প্রচারনাও চলে। রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকায় সবার হক থাকলেও পেটে রশি বেঁধেই ক্ষুধা নিবারন করতে হয় দারিদ্র্য আক্রান্ত প্রায় সব যন্ত্রশিল্পীদের। 

দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রক্রিয়া থেকে শুরু বিভিন্ন সময়ে শিল্পীদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা ভুলে গেলে চলবেনা। তাছাড়া বিনোদনহীন এই ক্যাকটাসের দেশে শিল্পীরাই সাধারন মানুষদের বিনোদিত করে মনে একটু শান্তি দিচ্ছেন। নিজস্ব সংস্কৃতি ছাড়া পৃথিবীর বুকে যে কোন জাতিই যাযাবর শ্রেনীর। সুতরাং নিজেদের অস্তিত্বকে সমুন্নত রাখতেই শিল্পীদের সম্মান করা উচিত। অপরাধ সব সার্কিটে সবচেয়ে বেশী, অনেকে মজা পান শিল্পীদের ব্যক্তিজীবনের কিচ্ছা চিবিয়ে খেয়ে। আমি গায়ক নই, এই শিল্পী সমাজে একজন আগন্তুক। ভাগ্য সহায় ছিল, তাই মহান আল্লাহর কৃপায় দেশের কিছু মানুষ আমাকে চেনে ভালবাসে দোয়া করে। এসবের যোগ্য নই জানি। আমি একজন সাধারন বাংলাদেশী, আপনাদের কাতারের সঙ্গী। শিল্পীদের ভালবাসুন, তারা দেশের সম্পদ। পাশাপাশি চিহ্নিত করে রাখুন সুখের সময়ের বন্ধুদের, যারা শিল্পীদের মানসম্মান সমুন্নত রাখতে পারেনা। যুগে যুগেএই দেশের কৃষ্টি সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হয়েছে মহাজ্ঞানী মহাজনদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকায়। তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। 

ভালবাসা অবিরাম...