ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০ , , ৬ শাওয়াল ১৪৪১

অটিজম ও মানবিক সেবায় একজন ‘রুখমিলা জামান’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: ডিসেম্বর ৯, ২০১৯ ১:০৬ দুপুর

[addtoany]

চট্টগ্রাম :: যেসব মানবিক সেবা ও কল্যাণমুলক বিষয় নিয়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে খূব কম কাজ হয়েছে তা হচ্ছে ‘অটিজম’। এই অটিজম নিয়েই চট্টগ্রামে সক্রিয় এবং নতুন উদ্যোম নিয়েই কাজ শুরু করেছেন রুখমিলা জামান।তার একটি বড় রাজনৈতিক পরিচয় আছে। আছে বড় কর্পোরেট পরিচয়ও। কিন্তু সবকিছু ছাড়িয়ে তিনি পরম বন্ধু হয়ে উঠেছেন অটিস্টিক শিশুদের।

মানবিক এই মানুষটির সাথে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু নেই। দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে জনপ্রিয় কর্পোরেট পারসোনালিটি রুখমিলা জামান ইউসিবিএল ব্যাংকের চেয়ারম্যান। তার রাজনৈতিক বড় পরিচয়টি উহ্য রাখলেও আন্তর্জাতিকভাবেও মানবিক কাজে তার সক্রিয় পদচারণা রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের মাধ্যমে এবং তার অটিজম নিয়ে কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে চট্টগ্রামে অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধি শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন রুখমিলা জামান।

অধিকার ও সুবিধা বঞ্চিত প্রতিবন্ধী শিশু এবং অটিজম আক্রান্ত শিশু ও তাদের পরিবারের পাশে থেকে নিরবে কাজ করে যাওয়া তার ব্রত হয়ে উঠেছে। চট্টগ্রামের বড় রাজনৈতিক পরিবারের পুত্রবধু উচ্চ শিক্ষিত এই নারী, একই সাথে একজন পূর্ণমন্ত্রীর ( সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ-ভূমি মন্ত্রী ) স্ত্রী এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান। কিন্তু সব পরিচয় ছাড়িয়ে অটিজম আক্রান্ত শিশুদের বন্ধু হিসেবেই নিজেকে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন।

নিজের সাধ্য সামর্থের সবটুকু ব্যয় করে নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন অটিজম ও প্রতিবন্ধি শিশুদের কল্যাণে। তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামে পরিচালিত হচ্ছে চট্টগ্রামের ফাউন্ডেশন ফর অটিজম রিচার্জ অ‌্যান্ড এডুকেশন, স্পেক্ট্রা স্কুল অব অটিজমসহ আরো বেশ কয়েকটি সংগঠন/প্রতিষ্ঠান এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

প্রতিবন্ধী এবং অটিস্টিক শিশুদের সেবা দিতে রুখমিলা জামান সম্প্রতি চালু করেছেন ‘পুতুলঘর’ মোবাইল অ্যাপ। গত মঙ্গলবার ‘ইন্টারন্যাশনাল ডিজঅ্যাবিলিটি ডে’ উপলক্ষে অটিজম আক্রান্ত শিশু ও তাদের বাবা-মায়েদের নিয়ে রুখমিলা জামানের উদ্যোগে চট্টগ্রামে আয়োজিত হয়েছে একটি বিশেষ ‘ইউনিটি প্রোগ্রাম’।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং ভুমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের সহধর্মীনি রুখমিলা জামান জানান, তিনি রাজনৈতিক, সামাজিক, কর্পোরেট জগতে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু এর বাইরেও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিগত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্ডার প্রিভিলেজ চিলড্রেন, অটিজম আক্রান্ত শিশু ও প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

গতানুগতিক প্রচারের বিমুখ রুখমিলা জামান বলেন, প্রতিবন্ধী শিশু এবং অটিজম আক্রান্ত শিশু যারা সামাজিকভাবে, পারিবারিকভাবে কিংবা শিক্ষা ক্ষেত্রে অবহেলার শিকার হয় তাদেরকে এক স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতেই আমরা কাজ করছি। প্রতি অটিজম শিশুর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, মেধার বিকাশ ও উন্নয়নের পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিকভাবে তারা যেনো কোন ভাবেই অধিকার ও সুবিধাবঞ্চিত না হয় সে ব্যাপারে আমি নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এছাড়া অটিজম আক্রান্ত শিশুদের পিতা-মাতাকে গতানুগতিক পশ্চাদপদ ধারণা থেকে বের করে এনে স্বাভাবিক সন্তানদের মতো তাদের সন্তানকে মানুষ করে গড়ে তোলার ব্যাপারে দৃঢ় মনোবল তৈরিসহ মানষিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করা হচ্ছে।

রুখমিলা জামান জানান, এই ধরনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ‘ইন্টারন্যাশনাল ডিজঅ্যাবিলিটি ডে ২০১৯’ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামের ‘পলোগ্রাউন্ড মাঠের এক্সিভিশন সেন্টারে, অটিজম আক্রান্ত ও প্রতিবন্ধী শিশু ও তাদের বাবা-মায়েদের নিয়ে বিশেষ ‘ইউনিটি প্রোগ্রাম’-এর আয়োজন করা হয়।

অটিজম আক্রান্ত শিশুরা যে স্বাভাবিক জীবন যাপন থেকে বঞ্চিত হয় অন্য সবার মতো নরমাল স্কুলে যেতে পারেনা তারা এই প্রোগ্রামে নরমাল স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীদের সাথে সময় কাটাবে, খেলবে, গাইবে, অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে। স্কুলের স্বাভাবিক শিশুরা অটিজম আক্রান্ত বা প্রতিবন্ধী শিশুদের সমর্থন জানাবে, ভালোবাসা দিবে।

একই অনুষ্ঠানে যেসব পিতা-মাতা সামাজিক বাধা সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে তাদের অটিস্টিক শিশুটিকে স্বাভাবিক শিশুর মতোই গড়ে তুলছেন, পড়ালেখা শেখাচ্ছেন। অটিস্টিক শিশুটিকেও একটি স্বাভাবিক জীবন দিতে অন্তহীন যুদ্ধ করে যাচ্ছেন সেসব গর্বিত পিত-মাতাকেও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়। প্রত্যেককে ‘পুতুলঘর’ মোবাইল অ্যাপ সম্বলিত মোবাইল ফোন উপহার দেয়া হয়। যাতে এই ফোনের মাধ্যমেই অটিজম আক্রান্ত শিশুদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারে বাবা-মা।

রুখমিলা জামান বলেন, অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিকভাবেও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমরাও সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই কাজ করে যাচ্ছি। এর জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। এর পরও আমাদের সাধ্য সামর্থ অনুযায়ী সবটুকু দিয়েই অটিস্টিক শিশুদের একটি স্বাভাবিক জীবন উপহার দেয়ার ব্রত নিয়েই আমার পথচলা।