ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০ , , ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

গোপনে ফিলিস্তিন সফরে সিআইএ প্রধান

আন্তজাতিক ডেস্ক, । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২০ ৫:৩৫ দুপুর

[addtoany]

 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সঙ্গে নিয়ে গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে তার তৈরি ‘মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা’ উন্মোচন করেন। এর একদিন পর গত বৃহস্পতিবার গোপনে ফিলিস্তিন সফর করেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) প্রধান জিনা হাসপেল।

গত বৃহস্পতিবার গোপনে অধিকৃত ফিলিস্তিনের রামাল্লাহ শহর সফর করেন সিআইএ প্রধান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কথিত ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার পর জিনা হাসপেল ফিলিস্তিন সফর করলেন। ট্রাম্পের ওই ‘শান্তি’ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনের সমস্ত রাজনৈতিক দল।

রামাল্লা সফরে ফিলিস্তিনের গোয়েন্দা পরিচালক মাজিদ ফারাজ এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েল আন্তঃসম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রী হোসেন আশ-শেখের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জিনা হাসপেল। তবে রামাল্লা সফর করলেও ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়নি বলে বলে জানা গেছে।

বৈঠকে জিনা হাসপেল ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের নিশ্চিত করেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে যেসব অবৈধ ইহুদি বসতি রয়েছে, আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে তেল আবিব সেগুলোকে তাদের ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করবে না। ইসরায়েলের গণমাধ্যমগুলো বলছে, জিনা হাসপেল ইসরায়েলের কর্মকর্তাদেরও একই বার্তা দিয়েছেন।

ট্রাম্পের কথিত শান্তি পরিকল্পনা প্রকাশের পর যখন ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলছেন ফিলিস্তিনের নেতারা, তখন জিনা হাসপেল রামাল্লা সফর করলেন। গতকাল এক জরুরি বৈঠক শেষে ট্রাম্পের ‘মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা’ প্রত্যাখ্যান করেছে আরব দেশসমূহের জোট আর লীগ।

মিসরের রাজধানী কায়রোতে এক জরুরি বৈঠক শেষে শনিবার ট্রাম্পের চুক্তিটি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেয় ২২ দেশের এই জোট। মিসরের রাজধানী শহরে গতকালের ওই সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, তার সরকার ইসরায়েলে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে আর কোনো রকম সম্পর্ক রাখবে না।

ট্রাম্প চুক্তিকে ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’ হিসেব অভিহিত করলেও আরব জোট তাদের বিবৃতিতে এটাকে ‘শতাব্দীর সেরা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। চুক্তিটিকে একপাক্ষিক অভিহিত করে জোটটি বলছে, ট্রাম্পের ওই চুক্তিতে ফিলিস্তিনের মানুষের ন্যুনতম অধিকার ও আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেনি।

গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে নিজের কল্পিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা উন্মোচন করেন ট্রাম্প। তিনি তার পরিকল্পনায় জেরুজালেমকে ইসরায়েলের ‘অবিভক্ত রাজধানী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। ইসরায়েল সাধুবাদ জানালেও ফিলিস্তিন এই চুক্তি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

ট্রাম্পের পরিকল্পনাটিতে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য একের পর কঠিন শর্ত পালনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হলেও সামরিক সক্ষমতা থাকবে বলে উল্লেখ রয়েছে তার পরিকল্পনায়। পাশাপাশি দখলকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলগুলোতে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব গড়ে তোলার ঘোষণাও দিয়েছেন ট্রাম্প।