ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০ , , ২৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

ত্রাণের আশায় লকডাউনে শত শত নারী-পুরুষের বিক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক,ঢাকা । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০২০ ৬:২৩ দুপুর

[addtoany]

 

ত্রাণের আশায় লকডাউনে শত শত নারী-পুরুষের বিক্ষোভ
‘সরকার ঠিকই ত্রাণ দেয়, কিন্তু আমরা কিছুই পাই না। আমাগো খাওন দেন, আমরা ঘর থেকে বাইর হমু না। সরকার যা আদেশ করবো তাই আমরা মানমু।’ কথাগুলো বলছিলেন সরকারি ত্রাণ না পাওয়া নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার কাশীপুর ইউনিয়নের বিক্ষোভরত এলাকাবাসী।

বুধবার (০৮ এপ্রিল) সকালে খাদ্য সহায়তার দাবিতে ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় বিক্ষোভে প্রায় তিন-চার শতাধিক নারী পুরুষ জড়ো হন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, করোনার কারণে সরকার দুই দফায় ছুটি ঘোষণা করায় কাজ বন্ধ হয়ে গেছে দিন মজুর শ্রেণির এই মানুষদের। ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। পুরো শহর লকডাউন হয়ে আছে। এই সংকটকালীন সময়ে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা তাদের কোনো খোঁজ নিচ্ছেন না। সরকারি কোন খাদ্য সহযোগিতাও পাননি তারা। ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে অনিয়ম রোধে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফজলুল হক বলেন, এই এলাকায় কোনো ত্রাণ দেওয়া হয় নাই। ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি নিছে দশদিন আগে। এখন পর্যন্ত কিচ্ছুই পাই নাই।

৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিকশাচালক শাহীন বলেন, কেউ একটা দানা চাউলও পাই নাই। আমরা ভাত চাই, কাপড় চাই। সরকার আমাগো লাইগা অনেক কিছু দেয়। কিন্তু আমরা পাই না।

এদিকে ত্রাণ বরাদ্দ কম এসেছে জানিয়ে কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মো. বাহাউদ্দিন বলেন, সরকার ত্রাণ না দিলে তো আর আমরা কিছু করতে পারি না। ১২ হাজার পরিবারের লিস্ট করছি, ত্রাণ আসছে ১০১০ পরিবারের। মেম্বাররা কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে দিচ্ছে।

ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এম সাইফউল্লাহ বাদল সময় নিউজকে বলেন, অনেক পরিবার না খেয়ে আছে আমরা নিজেরাও জানি। তবে সরকারি যে বরাদ্দ এসেছে তুলনামূলকভাবে খুবই কম। জেলা প্রশাসন থেকে যে পরিমাণ দেয়া হয়েছে আমরা ওয়ার্ড ভিত্তিক সরবরাহ করছি। এক সঙ্গে সব এলাকায় দেওয়া-তো সম্ভব না। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কারণে স্বেচ্ছাসেবক বা কর্মী অনেক কম। তারা হিমশিম খাচ্ছে।

চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ বাদল দাবি করেন, সাম্প্রতিককালে এ এলাকায় ১ হাজার পরিবারকে জেলা প্রশাসন থেকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। বেসরকারি ও ব্যক্তিগত ভাবেও দেয়া হচ্ছে। লকডাউন করা ৩০০ পরিবারের মধ্যে ১০০ পরিবারকেও দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকিদেরও দেয়া হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, এলাকার এক ছাত্রদল কর্মী ও তার বাবা বিএনপির কর্মী মিলে এলাকায় ছড়িয়েছে আজকে ত্রান দেয়া হবে। এ খবর পেয়ে মানুষ দলে দলে ছুটে এসেছে। তবে আজকে ত্রাণ দেয়ার কোন ঘোষণা আমরা আগে থেকে দেইনি। দেশের এই দূর্যোগের সময়েও বিএনপির লোকজন করোনা ভাইরাস ও ত্রাণ দেয়াকে পুঁজি করে রাজনীতি করছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, এখন রাজনীতি করার সময় না। আমারো করোনা হতে পারে। আমি চেষ্টা করছি নিঃস্বার্থভাবে সরকারের দেয়া ত্রাণ দুঃস্থ মানুষের হাতে তুলে দিতে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সব জায়গায় মানুষ ত্রাণ পাবে। তালিকা অনুযায়ী সকলের ত্রাণ পর্যায়ক্রমে পৌঁছে দেয়া হবে।

করোনায় নারায়ণগঞ্জকে রেড ও ডেঞ্জার জোন হিসেবে আইইডিসিআর চিহ্নিত করলে সরকার জেলাটিকে পুরো লকডাউন করে দিয়েছে। এখন পর্যন্ত এ জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৮। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৫ জন। এ ছাড়া জ্বর সর্দি কাশি ও শ্বাসকষ্ট জনিত করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে অন্তত আরো ৫ জন। তবে তাদের নমুনা পরীক্ষা করার আগেই পারিবারিকভাবে লাশ দাফন করে ফেলা হয়।