ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০ , , ৬ শাওয়াল ১৪৪১

হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতির মুখে ডেইরী ফার্ম, প্রণোদনা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট  । সি এন এন বাংলাদেশ

আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০২০ ৮:০৬ দুপুর

[addtoany]

চট্টগ্রাম :: করোনা দুর্যোগে প্রতিদিন প্রায় ৬৭ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ডেইরী ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশন। যা আগামী ১৪ এপ্রিল পযন্ত ১ হাজার ২ শত ৮৭ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে এই সেক্টরটি। এই সংকট উত্তরণে বিকেলে প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রণোদনা চেয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান নওফেলকে স্মারকলিপি প্রদান এবং অসহায় ফার্মারদের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করেন ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ।

এ সময় ব্যারিস্টার নওফেল বলেন, ডেইরী ফার্মের উন্নয়নের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শতভাগ আন্তরিক। যারা এ মহাদুর্যোগকে পুঁজি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গো খাদ্যের দাম বাড়িয়েছে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংগঠনের সভাপতি মো. ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মো. নাজিম উদ্দিন হায়দার, মালিক মো. ওমর, কাউছার শাহ আবদুর রাজ্জাক রাজনসহ অন্যান্যরা।

উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেল এমপি ডেইরী খামারীদের বাঁচাতে প্রনোদনাসহ নানা ধরণের সুযোগ বাড়াতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আরো বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা। তিনি দেখতে চেয়েছিলেন কৃষি ও কৃষকের সর্বাঙ্গীন উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা। জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের ডেইরী খামারীদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।

সভায় ফার্মার নেতৃবৃন্দ বলেন, গো খাদ্য যেমন ভুসি সয়াবিন এ ভর্তুকি দিয়ে মূল্য কমানোর খুবই প্রয়োজন। আজকের বাজারে ভুসির মুল্য প্রতি বস্তা ১৩১০ টাকা। এটি ভর্তুকি দিয়ে ৭০০ টাকার মধ্যে দিলে সব খামারী এর সুফল ভোগ করতে পারবে। তারা বলেন, বেসরকারি এবং স্বায়িত্তশাসিত দুধ ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানসমূহ দুধ কেনা বন্ধ বা সীমিত করে দেয়ায়, মিষ্টির দোকান সম্পুর্ন বন্ধ থাকায় দুগ্ধ উৎপাদনকারী খামার মালিকদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। প্রতিদিন অর্ধেক দুধ ফেলে দিতে হচ্ছে

এমতাবস্তায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ না নেন তাহলে ভবিষ্যতে দুধের ও মাংসের ব্যপক ঘাটতি দেখা দিবে যা আপনার বিগত ১০ বছরের অর্জনে বিরুপ প্রভাব ফেলবে। কারন স্বাধীনতার পরবর্তি ৩৯ বছরে আমাদের দুধ উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫% হয়েছিলো। আর বিগত ১০ বছরে তা বেড়ে ৩৫% থেকে ৭০% হয়েছে। তাই  বর্তমান আপদকালীন সময়ে আমাদের ডেইরি খামারীদের বাঁচানোর জন্য সরাসরি প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে নগদ ভর্তুকির ব্যবস্থা করলে খামারীরা বাচবে, আর দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবো।